খেজুর খেলে আপনি যে রোগ হতে মুক্তি পাবেন

অন্যধারা ডেস্ক : খেজুর খুবই পুষ্টিকর একটি ফল। ভিটামিন, আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ খেজুর একজন সুস্থ মানুষের শরীরে আয়রনের চাহিদার প্রায় ১১ ভাগই পূরণ করে। প্রতিদিন সকালে ৩-৪ টি খেজুর খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।

শুকনো খেজুরেও শরীরের দরকারি খনিজ মেলে। ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ হয়। মরু অঞ্চলের এ ফলের ঔষধিগুণ ও স্বাদ, দুই কারণেই এটি জনপ্রিয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শুকনো খেজুর খুব উপকারী বিশেষজ্ঞদের মতে।

খেজুরের উপকারীতা

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে :  প্রতিদিন খেজুর খেতে পারলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকবে। কারণ খেজুরের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, জিয়াজেন্থিন ও লিউটিন সহ আরও কিছু কার্যকারী উপাদান যা ম্যাকুলার ও রেটিনার স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। এর ফলে চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

হাড় সুস্থ ও মজবুত রাখে : নিয়মিত খেজুর খেলে হাড় সুস্থ ও মজবুত থাকে, এবং হাড়ের দুর্বলতা চলে যায়। হাড় সুস্থ ও মজবুত রাখতে ও খেজুরের উপকারিতা অতুলনীয়। এটিতে ভিটামিন, প্রোটিন, ক্যালসিয়ামও প্রচুর পরিমাণে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এই সকল মিনারেল বা খনিজ পদার্থ হাড়ের সুস্থতার জন্য অতুলনীয় ভূমিকা রাখে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে : বর্তমানে অনেক মানুষ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। যা শরীর স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সরূপ। আর তারজন্য আমরা অনেক টাকা নষ্ট করে ফেলছি। কিন্ত আপনি ইচ্ছা করলে কিছু প্রাকৃতিক খাবার খেয়েই বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারেন। খেজুরও ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে বিশেষ করে মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধেও এটি সহায়ক। তাই নিয়মিত খেজুর খান নিজেকে বিভিন্ন ক্যান্সার থেকে বাঁচিয়ে রাখুন।

শরীরে শক্তি যোগায় : প্রতিদিন ৪/৫ টি করে খেজুর খেতে পারলে, শরীরের শক্তি দ্রুত বাড়তে শুরু করবে এবং আপনার শারীরিক দুর্বলতা হ্রাস পেতে শুরু করবে। শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য সব খাবারের মধ্যে খেজুর হচ্ছে অন্যতম। কারণ এটিতে প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, শর্করা, ফাইবার, স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, লোহা, ফসফরাস, পটাশিয়াম সহ আরও অনেক কার্যকারী উপাদান রয়েছে। অর্থাত্‍ খেজুরে ক্যালরি রয়েছে পর্যাপ্ত, যার ফলে শরীরে যতেষ্ট শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এটিতে রয়েছে এমন সব উপাদান যা তাত্‍ক্ষণিক শক্তি ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।

ত্বক ভালো ও সুন্দর রাখে : ত্বক সুস্থ, সুন্দর, উজ্জ্বল ও কোমল রাখতেও খেজুরের উপকারিতা অনন্য। প্রতিদিন সকালে খালী পেটে ৪/৫ টা খেজুর খেতে পারেন ত্বক সুস্থ, সুন্দর রাখার জন্য। কারণ খেজুর একটি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার। এটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, প্রোটিন, ক্যালসিয়ামসহ আরও আশ্চর্যজনক ও কার্যকারী উপাদান। যা বিভিন্ন সমস্যা দূর করার পাশাপাশি ত্বক সুন্দর ও ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং যতেষ্ট উজ্জ্বল করে তুলে।

গ্লুকোজের অভাব দূর করে : শরীরে যেন গ্লুকোজের ঘাটতি না হয়, অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখা উচিত। খেজুর যথাযথভাবে গ্লুকোজের অভাব দূর করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি দেখা দেয়। আর খেজুর খাওয়ার পরে সে অভাব দূর হয়। তাই গ্লুকোজের ঘাটতি দূর করার জন্য নিয়মিত ৪/৫ টা খেজুর ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে খাওয়া উচিত।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে : সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধান করতে চান? তাহলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ৪/৫ টি ভালোমানের খেজুর খান। খেজুরে থাকা বিভিন্ন কার্যকারী উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দিতে পারে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে পারেন অথবা রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে পানি খেতে পারেন। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া সম্ভবনা কমে যাবে।

ওজন বাড়াতে সহায়তা করে : ওজন বাড়াতে চান? তাহলে নিয়মিত ৪/৫ টা করে খেজুর খান, ১/২ মাস পর দেখবেন আপনার ওজন যতেষ্ট বেড়ে যাবে। যারা চিকন বা যাদের ওজন মাত্রাতিরিক্ত হারে কমে যেতে শুরু করেছে তারা তো অবশ্যই স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন খেজুর খেতে পারেন। অনেকে স্বাস্থ্য মোটা করার জন্য অনেক চেষ্টা করে থাকে, তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যেগুলো খেলে ওজন বাড়তে থাকে। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে খেজুর ফল। এটিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি রয়েছে যা শরীরে ভাঙন রোধ করে ওজন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে : খেজুর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। তাই যাদের এই সমস্যা আছে প্রতিদিন ৪/৫ টি করে খেজুর খেতে দিন, যতেষ্ট উপকার পাবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : খেজুর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। যেমন হার্ট সুস্থ রাখতে ভুমিকা রাখে, ডায়াটারি ফাইবারে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরে ‘এল ডি এল’ বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় এবং সুস্থ ও ভালো থাকে। এছাড়া মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, হজমশক্তি বর্ধক, যকৃত্‍ ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক করে, অ্যানিমিয়ার মতো রোগকে দূরে রাখে, অ্যালার্জির প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে এবং খেজুরে থাকা প্রচুর মাত্রায় প্রাকৃতির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা একাধিক রোগকে দূরে রাখার পাশাপাশি শরীরের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অন্যধারা/সাগর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here