চুপ একদম চুপ । শাওন আসগর

চুপ একদম চুপ
শাওন আসগর

গেলো একমাস যাবত দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়ায় ঝড়ের সংকেত দেখা যাচ্ছে যা হয়তো সামনে দু‘এক মাসে সুনামীর আকার ধারণ করতে পারে। ডিসেম্বরে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সমূহ সম্ভাবনার কারণেই দেশের সর্বত্র এই উত্তাল হাওয়া, এমনকী এসব হাওয়ার তপ্ত বাতাস অফিস পাড়া থেকে বইতে বইতে রাজপথ উপশহর গ্রাম এমনকী চায়ের ষ্টলেও আছড়ে পড়ছে।

এই হাওয়ায় যে সরকারের গায়ে ফুসকা পড়ছেনা তা নয়। বেশ ভাবিয়ে তুলছে সরকারের বাঘা বাঘা ব্যক্তিদের। যদিও উপরে উপরে সরকারী নেতৃবৃন্দ নিজেদের ভয় কাটিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে জনগনকে আশ^স্থ করছেন আগামীতে ও নৌকাই জয়ী হবে। কিন্তু এসব ভাবনায় বাগড়া বসিয়েছে বিকল্প ধারা, গনফোরাম, নাগরিক ঐক্যসহ সংসদের বাইরে থাকা দলগুলো। হালে খেলাফত মজলিশ ও চরমোনাইর পীরের দলটিও কবুতরের সুরের মতো সরকারেরর বিরুদ্ধে সুর তুলছে।

চলতি মাসের প্রথমেই ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, বি চৌধুরীগন নিজেদের ঐক্য প্রকাশ করেছে এক আলোচনা সভায়। সরকারের কিছু কিছু নীতির বিরুদ্ধে তাদের সরব উপস্থিত জানান দিয়েছেন। যদিও এক্ষেত্রে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও কর্ণেল অলি আহমেদ এর ভূমিকা বেশ রহস্যজনক মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগন।

শোনা যাচ্ছে এই দু‘জন হয়তো সরকারের পার্ট হয়ে সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের বগলদাবায় নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। সাথে অবশ্যই একটি শেষ আকাঙ্খা পূরণে থাকতে পারেন অকেজো বুদ্ধিজীবী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা (সাধারন মানুষষের মতামত )।

অন্যদিকে এই নির্বাচনী হাওয়া এবং তড়িঘড়ি করে কোটি কোটি টাকার ইভিএম প্রজেক্ট হাতে নিয়ে কোনোরুপ আইনী অনুমোদন ছাড়াই জনগনের সামনে কলা ঝুলিয়ে রাখার একটি অবতারণা করছেন নির্বাচন কমিশন। তাতে অবশ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি শীতল জল ঢেলে বলেছেন আপাতত বেশি জরুরী নয় ইভিএম। প্রয়োজনে অল্প কিছু আসনে এটি করা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের এই পিছু হটা যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যর উপর নির্ভর করে তাহলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এর নিরপেক্ষতা নিয়ে চায়ের টেবিল গরম করবে।

অতো যে উত্তাপ, অতো যে আলোচনা তাতে মূলত অধিক পরিমানে ঘি ঢেলে দিয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশটি। গত কয়েক বছর যাবত দেশের জনগন শুনে আসছে বিএনপি মানেই জ্বালাও পোড়াও ও হত্যার রাজণীতির বাহক। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখন স্পষ্ট দেখতে পারছে, তিনবারের যেই প্রধান মন্ত্রীকে জেলে ঢোকানো হলো তখন হাজার হাজার মানুষ কোর্টে এবং রাজপথে মিছিল করেছে কিন্তু একটি গাছের পাতাও নষ্ট করেনি কেউ।

এমনকী একজন প্রধানমন্ত্রীকে মাত্র দুই কোটি টাকার জন্য যখন মাসের পর মাস জেলে একাকী নীরবে অসুস্থতায় বিনা চিকিৎসায় নির্জন কারাগারে রাখা হলো তখনও বিএনপির কেউ ভাঙ্গচুর বা জ্বালাও পোড়া এর সাথে সম্পৃক্ত হয়নি। তার মানে কী প্রমান হলো ? মানুষ বর্তমান রাজনীতি বুঝে, দেখে এবং অনুধাবন করে সত্য মিথ্যার সকল চিত্র।

সেই জ¦ালাও পোড়াও হত্যার মিথ্যা গল্পগুলোকে এবার বিএনপি লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে প্রমান করলো যে বিএনপি একটি সত্য শান্তিপ্রিয় দলকে লিড করে। দলের চেয়ার পারশন ছাড়াই এই সুশৃংখল লাখো জনতা সরকারের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি একটি আলোচনায় অনুমিত হচ্ছে যে পুরনো মেধাবী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বজনরা যদি সত্যি একটি প্লাটফর্মে আসতে পারে এবং প্রকৃত গনমানুষের রাজনীতি করে তবে সাময়িক সময়ের জন্য সরকারের নীপিড়ন বা আইনী প্রক্রিয়ায় গন গ্রেফতার বেড়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

পত্রিকান্তরে জানা যায় ইতোমধ্যে দেশের হাজার হাজার বিএনপি কর্মিকে ফ্রেফতার করাসহ বিভিন্ন হুমকী দেয়া হচ্ছে এমনকী সংবিধানের বাইরে গিয়ে সরকারের আজ্ঞাবহরা খালেদা জিয়ার কারাগারেই আদালত বসিয়েছে!

এই ইস্যুটি সর্বত্রই যখন ঘৃণার উদ্রেক করছে তখন সরকারের টার্ণিং পয়েন্টে আরো সহানুভূতি ও প্রকৃত গনতান্ত্রিক মানসিকতাসহ দেশ পরিচালনা করা উচিত বলে মনে করছেন সতেচন মানুষগন। নতুবা শেষ সময়ে মানুষের মনের যে অবস্থা তা পাঠ করতে সমস্যা হবে এবং তাতে সরকারকেই বেকাদায় পড়তে হবে। রাজনীতি এমনই, রাজনীতি জনগনের ভাবনার ওপরই ডিপেন্ড করে। জনগন মুখ ফিরিয়ে নিলে সেখান থেকে রেহাই পাওয়া কঠিন। আরো কঠিন হতে পারে যদি বিদেশী কোনো রাষ্ট্রের প্রেসক্রিপশন অনুয়ায়ী নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুস দেশের কথা ভেবে গনতন্ত্রের কথা ভেবে মানবিক কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত ‘সর্বদলীয় জাতীয় ঐক্য’ তৈরি করেন।

দেখা যাক কী ঘটতে যাচ্ছে এই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে। তাই এখানেই আপাতত: চুপ, একদম চুপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here