জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

অন্যধারা ডেস্ক : শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭তম বাংলা ভাষণ দেন শেখ হাসিনা।

মহামারি করোনা মোকাবিলার পাশপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন তিনি। ফিলিস্তিন এবং আফগান সমস্যাও তার আলোচনায় উঠে আসে। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে পুনরায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মহামারি সম্পর্কে বলেন, এই অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে বলপূর্বক কিছু সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে ভাষানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তাররোধে টিকা লাভের যোগ্য সবাইকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগেও বলেছি, আবারও বলছি, রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ নিতে হবে।

অন্যধারা/সাগর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here