বন্ধিনী চোখ । কল্যাণ চক্রবর্তী

বন্ধিনী চোখ 
কল্যাণ চক্রবর্তী

যে দেখায় হৃদ্ধ হয় মন, পবিত্র ডানারা উড়ে
বাতাসের ভারিক্কি স্বভাব থেমে যায়
পশুর শরীর নিয়ে বাঁচেনা মানুষ
আমি সেই দৃশ্য দেখবার জন্য চোখ খুলব
এখন বন্ধিনী চোখ অবসর নিক প্রত্যাশার কল্কি হাতে।

তুমি কি জাননা চোখ তোমার দৃষ্টি কতো ভয়ঙ্কর
অনুবিক্ষণ যন্ত্রের চেয়েও নিরীক্ষণ ক্ষমতা অধিক
শেন পাখির দৃষ্টিতে ধরা পড়ে নারীর কোমল প্রত্যঙ্গ
ফাইলের হাসি দেখে বলতে পার নোটের কচকচানির চুম্বন ক্ষমতা
মুখের দিকে তাকিয়ে তুমি বলে দাও সন্ত্রাসের কদর্য স্বভাব
মনের ভেতর বেড়ে ওঠা লোভের চুম্বকে তুমি আকর্ষিত হও
তোমার দৃষ্টিতে কিছুই ছাড় পায় না
তাইতো গান্ধারী হয়ে বন্ধনকে আবাহন করে আছি সর্বক্ষণ।

তোমার মণিকোঠায় স্বপ্নের রাজপ্রাসাদ গড়ে উঠে
কাল্পনিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে তুমিই শাহানশাহ
সম্পদের পাহাড় দেখলে মনের মাঝে আরব্য রজনীর দৈত্য খেলা করে
কর্তব্যের দাবির কাছে তুমি ছানিপরার ছদ্মাভরনে দৃষ্টি লুকাও
তোমার দৃষ্টিতে আপনপর ভেদজ্ঞান বিদ্যুৎ খেলে যায়
স্বর্গারোহনের প্রত্যাশার চাহুনী তোমার পদতল পিষ্ট করে মানবতাবোধ
তুমি কবন্ধের হাত ধরে এগিয়ে চলো সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে।

তোমার বন্ধন মুক্তি চাইনা কখনো
অন্তত বন্ধিনী চোখের কল্যাণে কিছুটা শান্ত বাতাস বয়ে যাক
বন্ধ হোক ইঁদুরদৌড়
মুক্তি পাক সভ্যতার বাড়ন্ত শেকড়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here