বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ট লংগদু’র সাধারণ জনগণ

লংগদু , প্রতিনিধি (রাঙামাটি): রাঙামাটি জেলার একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু। এ উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। তবুও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অবহেলিত অঞ্চল লংগদু। এ অঞ্চলের মানুষের মতাে এত অবহেলিত সঙ্কত বাংলাদেশের আর কোনাে অঞ্চলের মানুষ নেই। অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি এসেছে, গেছে এবং দায়িত্ব পালন করেছে কিন্তু লংগদু’র মানুষের ভাগ্যের কোনাে পরিবর্তন ঘটেনি। এই এলাকায় বিদ্যুৎ এসেছে ২০০৪ সালে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় দীর্ঘ ১৮ বছরেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে না স্থানীয় জনসাধারণ; অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এ এলাকায় নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়ার আশায় সবাই বাসা-বাড়িতে সংযােগ নিয়েছে, কেউ লেদ মেশিন, কেউ স্টুডিও, কেউ ফটোস্ট্যাটের মেশিন কিনে দোকান খুলেছেন। এখন সবার মাথায় হাত। বিদ্যুৎ এই আছে তাে এই নেই!
প্রতিদিনই ২০-২৫ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। মাঝেমধ্যে তো সারাদিনেও বিদ্যুতের হুদিশ মিলে না! বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজির কারণে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে, গরমে ও মশার উপদ্রবে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার দারুণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তা ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বেড়ে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। তাই এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন- লংগদুবাসীর বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হবে কি? কবে শেষ হবে এই গভীর অমানিষার কাল!?
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যােগাযােগ করেও প্রতিকার পেতে ব্যর্থ হয়েছে এলাকাবাসী। লংগদুবাসীর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিকার হােক। অবিলম্বে জনগণের স্বার্থে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিশেষ ভাবে আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অন্যধারা/সাগর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here