ভন্ড কাউন্সিলর-  নাজমুল হাসান পদ্য 

শিল্প সাহিত্য ডেস্ক: মতিন মিয়া এলাকার মান্যবর। সেদিন রাস্তায় এলাকার কাউন্সিলর মুন মিয়ার সাথে দেখা।

বল্ল হে সম্মানিত কাউন্সিলর সাহেব শুনেন, কিছু কথা বলি। আপনি এই করেন সেই করেন এতো পারেন,অতো পারেন খুব ভালো কথা। এখানে রাস্তায় জন্য সহায়তা করেন, ওখানে অমুক পাড়ায় দান করেন অমুক ওয়ার্ডে এটা দেন, সেটা দেন ২০,০০০ /৫০,০০০ টাকা অনুদান দেন, গরীব দুখিকে ভিক্ষা দেন। এসব লোক দেখানো ইবাদত ছাড়েন মিয়া।
কাউন্সিলর মুন বললেন, হঠাৎ খেপলা কেন?
কি করছি আমি? আমি তোমাগো প্রতিনিধি
তোমরাইতো বানাইছ। হ হেললাইগাই কইতাছি
কাউন্সিলর শুনেন,
মহান আল্লাহ  লোক দেখানো ইবাদত পছন্দ করেন না।
আপনাকে আল্লাহ বড় না করলে কার সাধ্য আছে আপনি বড় হবেন বলেনতো দেখি?
হইতে পারবেন না। তাই কিছু কথা কই মিয়া মনো যোগ দিয়া শুনেন।
আপনি পদ্য কবিকে অপমান করেছেন,আপনার বাবা অপমান করেছে, আপনার বাবা বলেছে তুই আর আমগো এই দিকে আসবিনা, সাবধাণ! সবার সামনে বলেছে কবি নাকি নাম বেচে আপনার। আরে মশাই কবি কি জ্ঞানী ব্যক্তি নয়? শিক্ষিত নয়?অর্থ শালী নয়? আপনার কি এমন বালের নাম, যে বেচত অইবো। কি হইয়া গেছেন মিয়া। সামান্য কাউন্সিলর। কি আছিলেন? কি করতেন? কি অইলেন ভাবেন মিয়া ভাবেন।আরে শুনেন আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছে কবিকে আপনারা কাদাইলেন বইলা। কবি কষ্ট পেয়েছে খুব। কবি আপনাগো মাফ করবেনা। মাফ চাইয়া লইয়েন। শুনেন মিয়া কবি এই ভাবে আল্লাহ কাছে নালিশ করেছে,,,,,
হে আল্লাহ তুমি ন্যায় বিচারক তুমি বিচার দিবসের মালিক তুমি ন্যায় বিচার কইরো। আরো বললো, হে খোদা আমি অভিষাপ দিলাম ইনশাআল্লাহ এই প্রতারক মিথ্যাচারের পতন হবে। তুমি কইরো মালিক।
মিয়া শুনেন কবির অভিষাপ কিন্তু লাগে।
কবি এমনি আসেনাই এই জাগতে,  আল্লাহ তাকে প্রেরণ করেছেন এই জগতের মানুষ গুলারে আলোকিত প্রতিদিনের মত আলোকিত করতে।
আরে মিয়া আপনি শেষ হয়ে যাবেন। ফকির হয়ে যাবেন সেই দিন খুব কাছে এসে হাজির।
এখনো সময় আছে কবিকে সন্মানিত করেন সন্মান দেন,আপনার পুলাপাইনগো কইয়েন
সন্মান দিতে মনে রাখবেন মিয়া,
সন্মান দিলে
সন্মান মিলে।
“যে ভাবে এসেছিলো সব
এসেছিলো তব ধারে
ফিরিয়ে নিবেন খোদা
আপনার আরশের ঘরে”
শুনেন মিয়া আজ কিন্তু আমার ও সাধারণ জনগনের প্রশ্ন আপনার কাছে
আপনার নিজের বাড়ির সামনে অলিগলিতে কেন আসেন না? কেন এই নিরিহ লোকদের দেখেন না। তাদের সাহায্য করেন না।অনেক আশা নিয়ে আপনাকে কাউন্সিলর বানাইছে ঐ সব মানুষ । আচ্ছা ভোটের দরকার নেই আগামীতে বুঝলাম? আপনে নাকি আবার  ইয়ে হইতে চান আগামীতে – লজ্জা করেনা আপনার মিয়া ছিঃছিঃ
মিয়া ভালো হয়ে যান, সন্ত্রাসী কইরা বড় হওয়া যায়না।
অনেক কিছুই বলার আছে কিন্তু বললামনা। আমি চাইনা আপনি এলাকার মানুষের কাছে ছোট হোন। এবং আপনার সম্পর্কে যেন সাধারণ জনগনের খারাপ ধারনা জন্ম না হয়। শুনেন আপনার ইমেজ ধূলোয় লুটিয়ে যাবে কবির লেখনির কারনে। এখনো সময় আছে আসুন নিজের বাড়ির অলি গলি ঠিক করুন। যেখানে সমস্যা নিজে এসে দেখে যান পদক্ষেপ নেন।
আপনের চামচা গুলারে ঠিক করেন আগে মিয়া।
নইলে সব এক সাথে কোথায় গিয়া পড়েন কে জানে! আপার নামে কয়েকটা মামলা রানিং আছে। হত্যা মামলা থেকে শুরু করে আরো কত কি?
এখনো সময় আছে মুন মিয়া ফিরে আসেন
শুনেন মুন ভাই আপনি কবিকে চিনেন নাই
সে কি জিনিস,
এই চেনার জন্য কবি লিখেছে তার কবিতায়
চেনা হয় না, আমি পইরাতো অবাক
কবিতার লাইল গুলা এমন,
তুমি আমার কতটুকু গভীরে প্রবেশ করেছ
বললে চিনতে পেরেছ
এতো সহজেই কি মানুষ চেনা যায়?
চুম্বকের আকর্ষণে লোহা চিনে নেয় তার পরিচয়,
মানুষের আকর্ষণে মানুষকি চেনা হয়?
আহা কি লেখা মনের ভেতরে একেবারে গাঁইথা গেল।
মুন ভাই আপনি কাউন্সিলর  আপনের অপরাধের শেষ নাই এটা সবাই জানে।আপনার পালিত পোলাপাইন গুলা খুব বেয়াদব, এইযে শুনলাম গত কালকে নাকি কবি  আপনার কাউন্সিলর অফিসে আসছিলো আপনাকে তার পত্রিকা দিতে, পরে শোনলাম আপনার চামচা জাহাঙ্গীর কোরাইশি,  সে কবিকে অপমান করেছে, বকা দিয়েছে, এতো সাহস সে পায় কোথায় মিয়া। সামান্য এক জন মানুষ জাহাঙ্গীর কোরাইশি। অসামান্য এক অনন্য অসাধারণ মানুষকে
অপমান করে কেমনে মুন মিয়া। এইডা কিন্তু সে ঠিক করেনাই মিয়া। ওদের ভালো হইতে বইলেন, কবি সম্মানি ব্যাক্তি। সে অনেক বড় মনের মানুষ, নিজের পকেটের টাকা দিয়া সে মানুষের উপকার করে।দেশের সেবা করে। দশের উপকার হয়। সবাই দোয়া করে।
এতো ক্ষন শুধু মতিন মিয়ার কথা গুলো
শুনে যাচ্ছিলো কাউন্সিলর মুন।
পরে মুন মিয়া বলল শুনেন মতিন ভাই
আমিতো এসব কিছুই জানিনা।  ঠিক আছে
এখন যেহেতু জানতে পারলাম আমার পোলাপান যারা ওদের বলে দেব
কবির সাথে যেন কেউ বেয়াদবি না করে।
আসলেই কবি সম্মানিত ব্যক্তি, তারে চিনতে আমরা ভুল করছি। ঘরের কাছের এই রত্নডা আমরা যত্ন করিনা আল্লায় মাফ করলেই অয়।
আসলে কবিতো আমার এলাকার ছেলে আমার এখানকার বাড়িওয়ালা সে। শুনেছি সে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোতে অনেক বড় চাকরি করে, লাখ টাকা মায়নে পায়। আবার এখন নাকি কয়েকটা টিভি চ্যানেলের ও জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক। মতিন ভাই আমারে বাচান ভাই। কুন সমে কি রিপোর্ট কোন জায়গায় কইরা দিবো পরে আমার সব খেইল শেষ হইবো।
এই বলে কাউন্সিলর মুন জুরে হাত চেপে ধরে মতিন মিয়ার।
আচ্ছা আচ্ছা আমি কবিকে বুঝাইয়া
বলমুনে।
হ ভাই তাই কইরেন।
হ কমু নইলে
আপনার বিরুদ্ধে জাতীয় পত্রিকায় ধারাবাহিক কিচ্ছা ছাপানো হবে কইছে। যদি ছাপে তয়  ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনার গোপন খবর জানবো। তখন টেকেল দিতে পারবেন কি? পারবেন না মিয়া আমি জানি। ঠিক আছে শুনেন কবির সাথে লিয়াজু কইরা চলেন মিয়া। কবির হাত অনেক বড় সে ঢাকার পোলা। শুনছি সাবেক স্বরাষ্ট  প্রতি মন্ত্রীর ভাগিনা কবি। তারে নসুকচু মনে কইরেন না।  তার সাথে তাল মিলাইলে আপনের লাভ মিয়া। সে খুব সৎ ও বিনয়ী তারে ভালো বাসেন। দেখবেন আপনে অনেক লাভোবান হবেন।
(বিঃদ্রঃ গল্পটি কারো জীবনের ও নামের সাথে মিলে গেলে তা কাকতালীয় এর জন্য লেখক দায়ী নয়)
অন্যধারা/সাগর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here