শরীর খারাপের গল্প । সৈয়দ রনো

শরীর খারাপের গল্প
সৈয়দ রনো

তন্ত্রমন্ত্র জানা এক বৌদ্বিষ্ট সাধক ভিখু
ন্যাড়া মাথার টিকি দুলিয়ে বললেন-
সন্দেহ প্রবণতা এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে
শুনেছি জোছনার কোন কলঙ্ক ছিলো না
রৌদ্র খড়তাপও ছিলো মানবিক
প্রকৃতির অপার মুগ্ধতায় স্নান সেরেছি আমরা
ঝকঝকে তকতকে আকাশের গায়ে ছিলো এক ফালি চাঁদ

আভিজাত্য নিয়ে সবার কপালে
পরিয়ে দিতো জ্বল জ্বলে টিপ
তখন আমার বয়স ছিলো শুন্যের কোঠায়
শুন্যের কোঠায় আবার মানুষের বয়স হয় নাকি
ঐতো হলো বাবু
তেরাকোটা, চিলেকোঠা, শুন্যের কোঠা
একইতো কথা

দুধে ভেজা চিতোই পিঠার মতো
জোছনা স্নানে ভিজে
স্যাঁতস্যাঁতে ভোগবিলাসী রাত কাটিয়েছি অনেক
এখন আর সেসব দিন নেই
স্মৃতির চিলেকোঠায় জমানো আছে কেবল
প্রকৃতির পাজাকোলে লুকিয়ে আছে সব

একদল সন্দেহ প্রবল বিবস্ত্র মানুষ
স্রষ্ঠার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
প্রশ্নবাণে জর্জরিত করলেন
তার কর্মকাণ্ড খেয়ালিপনা নিয়ে
এই বিশ্বভূমাণ্ড কি আপনার সৃষ্টি
আপনি কি সত্যি স্বয়ং সর্বময় ক্ষমতাবান ঈশ্বর

কয়েক মিনিটের শুনশান
নিরবতার ফাঁক গলিয়ে নিমিশেই
হাজির হলো সাড়িবদ্ধ জন্তু-জানোয়ার

প্রাচীন যুগের মল্লযুদ্ধের মতো
শুরু হলো মানব এবং দানবের মধ্যে
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ঈশ্বর নামক মহাশক্তিধর কিঞ্চিত হাসির রেখা টেনে
একেবারে নিরব নিস্তব্ধ
অবশ্য আলোকছটা আছড়ে পড়লো
আমার চোখে মুখে

আমার করণীয় নিয়ে ভাবতে ভাবতে
ঘর্মাক্ত আমি দ্বীধা সংকটে ঠায় দাঁড়িয়েছিলাম
পাথর মূর্তি হয়ে
যুদ্ধ থামানোর কোন কৌশল
কিংবা অলৌকিক কোন ক্ষমতা জানা নেই আমার
শুধু অনুসূচনার দাউ দাউ আগুন

দলনেতা খেঁকিয়ে উঠে বললেন
হে ঈশ্বর এই অসভ্যতার শেষ কোথায়
তুমি কেন মানুষ নিয়ে খেলছো
দানব দিয়ে এই অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ করো
মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তিই যদি দিলে
তাহলে কেন অধিকার কেড়ে নিচ্ছো

এ স্বাধীনতার কোন মানেই হয় না
দানবের নখের আঁচড়ে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে এলো মানবিক রক্ত
তখনো ঈশ্বর নামক ছায়ামূর্তি নিশ্চুপ এবং নির্বিকার
ঈশ্বরপল্লীর মল্লযুদ্ধের আগুনে যেনো ঘি এর বাঘার
ক্ষণিকেই জ্বলে পুড়ে ছাই-ভস্ম
দানবের সীমাহীন আক্রমণে এবং রণ কৌশলে
ধরাশায়ী হলো মানবকূল

বিদ্যুৎ চমকানোর ঝিলিক দিয়ে ছায়াকুন্ড সব
চোখে ধাঁধিয়ে মিলিয়ে গেলো দৃষ্টি সীমানার বাইরে
মানুষ এবং পশু তখন যুদ্ধ থামিয়ে উদ্ধমুখী হয়ে
ঈশ্বর ঈশ্বর বলে সে কী চিৎকার চেঁচামেচি

আমি কিছুই বুঝে উঠবার আগেই বৃদ্ধ ধর্মযাজক স্কন্ধে
হাত রেখে বললেন-
বুঝলে হে বালক, বিধাতা নিরুদ্দেশ
দাঁত কেলিয়ে দানবের অট্টহাসি দেখে
রাগান্বিত কন্ঠে
ভিড় ঠেলে কেউ একজন বললেন-
ভুগাস সব ভুগাস, তোমরাই যতো অনিষ্টের মূল
পুনরায় হৈচৈ চেঁচামেচি দোষারোপের পালা।

আমিও কম কীসে
পশু তাড়ানো হর্নের মতো
নিজের অজান্তেই বেজে উঠলো আমার কণ্ঠ
চোখ মেলে দেখি
আমার স্ত্রী-সন্তান জগের বদল বদনার নলে
মাথায় ঢালছে বরফ গলা হিমশীতল পানি

কানের কাছে ফিসফিস করে বউ বললো-
জ্বর মাথায় উঠেছে, পারলে আবার ঘুমিয়ে পড়ো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here