শান্তি নিবাস । সানজিদা প্রীতি

শান্তি নিবাস 
সানজিদা প্রীতি

মন্টু মিয়া দ্রুত পায়ে হেঁটে চলেছেন, যে করেই হোক তাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছাতে হবে। অন্যসময় আটটার মধ্যেই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু আজকে ঢাকা থেকে লোক গুলো আসাতে দোকান বন্ধ করতে তার রাতের বারোটা বেজে যায়। মন্টু মিয়া মন প্রাণ এক করে প্রার্থনা করছে আজকে যেন ওনাদের হাতে পড়তে না হয়। রাতের বেলায় ভূত প্রেতাত্মাদের নাম নিতে নেই তাই মন্টু মিয়া মনে মনে বলছে, ‘হে আল্লাহ এই যাত্রায় তুমি আমাকে ওনাদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দাও।’ কিছুক্ষণ হাঁটার পর মিন্টু মিয়া টর্চের আলোয় দেখলো, এই গরমে অন্ধকারের মধ্যে কে যেন সাদা চাদুর গায়ে দিয়ে বসে আছে আর কাঁদছে। প্রথম দেখার পর মিন্টু মিয়া থমকে দাঁড়ায় ভয়ে। দোয়া দরূদ ও যেন তার মুখ দিয়ে আসতে চাচ্ছে না। ভয়ে ভয়ে টর্চের আলোয় এক পা দো পা করে সামনে এগিয়ে যায় মন্টু মিয়া। বসে থাকা লোকটার যত কাছে যাচ্ছে সে, কান্নার শব্দ তত বেড়ে চলেছে। লোকটার কাছাকাছি আসতেই মন্টু মিয়া জিজ্ঞাসা করল, কে আপনি? এতো রাতে এখানে বসে কান্না করছেন কেন? আপনি কোন গ্রামে থাকেন?

চাদরের ভিতর থেকে একটা ভারী পুরুষ গলায় উত্তর এলো, আমি নবাব। পাশের গ্রামেই থাকি। আমার মাথাটা খুঁজে পাচ্ছি না তাই কাঁদছি। আপনি আমার মাথাটা দেখছেন ভাই? লোকটার কথা শুনে মন্টু মিয়ার যেন কলিজার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। সে আবারও জিজ্ঞাসা করল, ভাই আপনি আমার সাথে মজা করেন নাকি কিছু খেয়েছেন? মাথা না থাকলে আপনি কথা বলছেন কী করে?

মন্টু মিয়া কথা শুনে লোকটা আরও জোরে কান্না করা শুরু করল। তারপর বলল, ভাই সত্যি আমার মাথাটা আমি খুঁজে পাচ্ছি না। গত দশ বছর ধরে মাথাটা খুঁজে যাচ্ছি কিন্তু পাচ্ছি না। পুলিশ ও অনেক খুঁজেছে কিন্তু কোথাও খুঁজে পায় নি তারা। আমার বন্ধুরা আমার মাথাটা কেঁটে যে কোথায় লুকিয়েছে আমাকে একটু বলল না। আপনি আমার মাথাটা দেখেছেন ভাই?

এইসব কথা শুনার পরে একটা শীতল হাওয়া যেন মন্টু মিয়ার মেরুদন্ড দিয়ে বয়ে গেল। মন্টু মিয়া একটু সাহস সঞ্চয় করে আবারও বলল, ভাই আমার সাথে কী আপনি মশকরা করছেন? আপনার যদি মাথা না থাকে আপনি কথা বলতেছেন কেমনে? কেন শুধু শুধু আমারে ভয় দেখাচ্ছেন?

মন্টু মিয়ার কথা শুনে নবাব কিছুটা রাগান্বিত স্বরে বলল, আমি আপনার সাথে মশকরা করতে যাব কেন? আমি গায়বী আওয়াজে কথা বলছি। এই দেখ আমার মাথা আছে কি না.. বলেই লোকটা গায়ের থেকে চাদুরটা সরিয়ে ফেলল। মন্টু মিয়া তাকিয়ে দেখল একটা মাথাহীন দেহ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এটা দেখার পরে মন্টু মিয়া ভয়ে দৌড় দিতে গেল কিন্তু নিজেকে সামলাতে না পেরে সে রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ল।

মন্টু মিয়া রাস্তায় পড়ার পর অনুভব করল একটা বরফের মত ঠাণ্ডা হাত তার পায়ে কেউ রেখেছে। রাস্তায় পড়ে যাওয়ার কারণে টর্চ লাইটা যে কোথায় পড়েছে মন্টু মিয়া অন্ধকারে হাতড়েও তা খুঁজে পাচ্ছে না। এইদিকে ঠাণ্ডা হাতটি তার পা ধরে টেনে তাকে নিয়ে যাচ্ছে। আর বলছে, তোর মাথাটায় আমার লাগবে। মন্টু মিয়া চাচ্ছে চিৎকার করতে কিন্তু কিছুতেই তার মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। হঠাৎ করে চারদিক আলোকিত হতে লাগল। মন্টু হাজার চেষ্টা করেও নবাবের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারলো না। মন্টু দেখল নবাব তাকে একটা বট গাছের নিচে এনে ফেলল। মন্টু চাচ্ছে উঠে দাঁড়াতে কিন্তু সে কিছুতেই পারছে না। যেন একটা অদৃশ্য শক্তি তাকে ধরে রেখেছে।

মাথা হীন নবাব একটা ছুরি হাতে নিয়ে মন্টু মিয়ার দিকে এগিয়ে আসছে। মন্টু মিয়ার গলায় ছুরিটা বসিয়ে মাত্র টান দিতে যাবে ঠিক সে সময়ে মন্টুর ঘুমটা ভেঙে যায়। মন্টু মিয়া লাফ দিয়ে উঠে বসে হাঁপাতে লাগল। তার সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে গেছে। শরীরের প্রতিটা লোম এখনও দাঁড়িয়ে আছে। ভয়ে তার গা কাপচ্ছে। সে এখনও বুঝতে পারছে না এটা স্বপ্ন ছিল নাকি সত্যি! তার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না যে সে বেঁচে আছে। তার এমন হাঁপানোর শব্দ শুনে তার বউ এর ঘুমটা ভেঙে যায়। মন্টুকে এমন অবস্থায় দেখে সালেহা বেগম উঠে বসে তাকে জিজ্ঞাসা করল, কি হয়েছে তোমার? এমন করছো কেন?খারাপ কিছু দেখছো? পানি খাবা?

মন্টু মিয়া কোনো কথার জবাব না দিয়ে শুধু মাথাটা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক ইংগিত দেয়। সালেহা উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি নিয়ে আসে মন্টুর জন্য। মন্টু ঢকঢক করে এক নিশ্বাসে সব টুকু পানি খেয়ে শুয়ে পড়ল।

শুয়ে শুয়ে সে ভাবতে লাগল কেন সে এই স্বপ্নটা বারবার দেখে?এই বাড়িতে আসার পর থেকেই কয়দিন পর পর সে এই স্বপ্নটাই দেখে। তার নিজের করা নতুন বাড়ি এটা। নতুন বাড়িতে উঠেছে যে এক মাস হয়েছে। চার মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে এখানে সে একা থাকে। আর পুরনো বাড়িতে থাকে তার মা ও অন্য ভাইরা। গ্রামে তার একটা বড় দোকান আছে। সবার থেকেও তার দোকানটাই ভালো চলে। কিন্তু এই বাড়িতে উঠার পর থেকে তার দোকানটা আগের মত আর ভালো চলে না। এখন প্রতিদিন সে আটটার সাথে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে আসে।

পরের দিন সকালে মন্টু মিয়া তার স্ত্রীকে স্বপ্নের কথা কিছু না বলে নাস্তা খেয়ে দোকানে চলে গেল। তার এই স্বপ্নের কথা সে তার স্ত্রীকে কখনও বলেনি। যদি তার স্ত্রী ভয় পেয়ে যায় এই জন্য। মন্টুর শরীরটা ভালো লাগছেনা। দোকান বন্ধ করে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বাড়ি ফিরছিল। পথে মধ্যে কোত্থেকে একটা পাগল টাইপের মানুষ তার সামনে এসে দাঁড়ালো। মন্টু মিয়া অন্য খেয়ালে ছিল তাই লোকটা হঠাৎ করে সামনে আসাতে মন্টু প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়। পাগল লোকটা মন্টুর মুখের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, ঘোর বিপদ আসছে তোর। ওই বাড়ি ছেড়ে দে। না হলে কাউকে বাঁচাতে পারবি না তুই। তুই কখনও শান্তি নিবাসে শান্তি খুঁজে পাবি না।

কথা গুলো বলেই লোকটা দাঁত বের করে হাসতে লাগল। এক মুহূর্তে মন্টু মিয়ার মুখ রক্ত শূন্য হয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেল। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে তার কপালে। লোকটিকে পাশ কাটিয়ে সামনে হাঁটা শুরু করে মন্টু।লোকটিকে দেখার জন্য পিছনে ফিরতেই দেখে যে লোকটি আর সেখানে নেই। নিমিষেই হাওয়া হয়ে গেছে লোকটি। এই দৃশ্য দেখে মন্টুর মিয়ার পেটের মধ্যে কেন জানি মোচড় দিতে শুরু করল। তার প্রচণ্ড বেগে বমি আসতে লাগল। কিছু বুঝে উঠার আগেই মন্টু মিয়া হরহর করে রাস্তার উপর বমি করে ফেলল।

দুদিন থেকে মন্টু মিয়ার শরীর ভালো না। শরীরে প্রচণ্ড জ্বর। এই গরমে কেন তার এমন জ্বর হয়েছে তা বুঝতে পারছে না তার বউ। গ্রামের ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাইয়েছে কিন্তু তারপরও জ্বর কমছে না। সেদিন রাতে তার মেজো মেয়ের চিৎকারে সালেহ বেগম ও সে দৌড়ে মেয়েদের রুমে যায়। যাওয়ার পরে যা দেখল তা দেখার জন্য দুজনের কেউ প্রস্তুত ছিল না। তার মেজো মেয়ের কাঁটা মাথাটা নিচে পড়ে আছে। আর প্রাণ হীন দেহটা খাটের উপরে পড়ে আছে। পাশে ফ্যানটা পড়ে আছে। ফ্যানটা উপর থেকে পড়ে মেয়েটার মাথা আলাদা করে দিয়েছে। দেয়ালে রক্ত ছিটকে গিয়ে পড়েছে। চোখ খোলা কাঁটা মাথার দিকে তাকিয়ে সালেহা বেগম সেখানেই জ্ঞান হারালেন।

মন্টু মিয়ার মেজো মেয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে তাদের বাসার মধ্যে কার যেন পায়ের শব্দ সে শুনতে পায়। একদিন রাতে তার ঘুম ভেঙে গেলে পাশে ফিরতেই দেখে একটা মাথা কাঁটা দেহ তার পাশে শুয়ে আছে। চিৎকার দিয়ে উঠে বসতেই দেখল সেখানে কিছু নেই। সে এতো জোরে চিৎকার দেওয়ার পরেও তার স্ত্রী ঘুম না ভাঙতে দেখে সে অবাক হয়। সে বুঝতে পারছে না এটা স্বপ্ন নাকি বাস্তব? সে তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিতে লাগল তারপরও তার স্ত্রীর ঘুম ভাঙছে না। নিজেকে তার খুব অসহায় মনে হতে লাগল। এদিকে ভয়ে তার গলাও শুকিয়ে গেল। পানি খাওয়ার জন্য খাট থেকে পা নিচে রাখতেই সে অনুভব করল কেউ তার পা ধরেছে। সে নিচের দিকে তাকাতে দেখলো একটি হাত। মন্টু মিয়া কিছু না বলে খাট থেকে নিচে বসে খাটের নিচে তাকালো। তাকাতেই সে দেখতে পেল তার মেজো মেয়ে দাঁত বের করে তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। সে হাত বাড়িয়ে মেয়েকে ধরতে যাবে ঠিক তখনই কেউ একজন তার পিছনে এসে দাঁড়িয়ে তাকে ডাকল, বাবা। মন্টু মিয়া পিছনে তাকাতেই দেখে তার মেজো মেয়ে তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। পিছনে মেজো মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে আবারও খাটের নিচে তাকালো। না খাটের নিচে কেউ নেই। মন্টু মিয়ার মনে হতে লাগল এটা হয়তো স্বপ্ন এখনই ভেঙে যাবে। কিন্তু ভাঙছে না কেন স্বপ্নটা? তার মনে হতে লাগল আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝি সে মরতে চলেছে? পিছনে থাকা তার মেজো মেয়েটি এইবার অট্টহাসি দিতে লাগল। হাসতে হাসতে বলল, তুমি স্বপ্ন দেখছ না যে এটা ভাঙবে। শুনো এখনও সময় আছে এখান থেকে চলে যাও। না হলে তোমার বাকি মেয়েদেরকেও বাঁচাতে পারবে না।

মন্টু মিয়া পিছনে তাকিয়ে তার মেয়েকে শুধু দেখছে। সে চাচ্ছে কিছু বলতে কিন্তু তার আগেই সব কিছু যেন ঘুরতে লাগল তার কাছে। কখন যে মন্টু মিয়া জ্ঞান হারিয়েছে সে বলতে পারবে না। পরের দিন যখন মন্টু মিয়ার মেয়েরা গোসল করার জন্য পানিতে নামল তখন তার ছোট মেয়েটা পানিতে ডুবে যায়। পানিতে নেমে অনেক খুঁজার পরেও মেয়েটাকে খুঁজে পায় না তারা। ঘন্টা খানেক পরে মেয়েটার মৃত দেহটি পানির উপরে ভেসে উঠে। মেয়েটার সমস্ত শরীরে নখের দাগ ছিল।

পর পর দুটো মেয়েকে হারিয়ে মন্টু মিয়া ও তার স্ত্রী শোকে যেন পাগল হওয়ার অবস্থা। কেন বারবার তার সাথেই এমন হচ্ছে তা সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না। সে তার দুই মেয়েকে হারিয়েছে বাকি দুই মেয়েকে আর হারাতে চায় না। কিন্তু সে এই বাড়ি ছেড়েও যাবে না। তার এতো কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়ে বাড়িটা করেছে। কী করে সে এই বাড়িটা ছেড়ে যাবে?

সেদিন সন্ধ্যায় একজন দরবেশ টাইপের লোক এসে তার বাড়িতে উপস্থিত হয়। দরবেশ লোকটি মন্টু মিয়ার দিকে তাকয়ে থেকে বলে, তোর মেয়ে তো ডুবে মরেনি রে, তাকে মারা হয়েছে।

দরবেশ লোকটির কথা শুনে মন্টু চমকে তাকায় তার দিকে। সে দরবেশ লোকটিকে বলে, কী বলছেন আপনি? আর কে আপনি? দরবেশ লোকটা মন্টু মিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, আমি কে সেটা বড় কথা না। আমি যা বলছি সেটা সত্যি বলছি। আমি যদি ভুল না করি তা হলে কিন্তু তোর মেয়ে খুব ভালো সাঁতার জানতো। আর তারা যখন পানিতে সাঁতার কাটার জন্য নামে তখন ওই অশরীরী আত্মাটি তোর মেয়ের পা ধরে তাকে পানির নিচে নিয়ে যায়। তোর বাচ্চা মেয়েটাকে সে খুব কষ্ট দিয়ে মারে।

দরবেশ লোকটির কথা শুনে মন্টু মিয়া হাউমাউ করে কান্না করা শুরু করে। সে বলতে লাগল, কেন আমার সাথে এমন হচ্ছে? কী দোষ আমার? আমার মেয়ে গুলোকে কেন এমন করে হত্যা করা হচ্ছে। আমাকে বাঁচান। আমি তো কারোর কোনো ক্ষতি করিনি। আমার কী করা উচিত এখন?

দরবেশ লোকটি বলতে লাগল, দেখ তোর কোনো দোষ নেই। দোষ তোর ভাগ্যের। তুই স্বপ্নে একটা লোককে দেখতি যার মাথা কাঁটা। তুই কী জানিস সে লোকটার মাথা তোর বাড়ির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে?

দরবেশ লোকটির কথা শুনে মন্টু মিয়া একদম স্তব্ধ হয়ে গেছে। সে এই কথাটা জানতো না। সে কী বলবে তা খুঁজে পাচ্ছে না।
দরবেশ লোকটি আবারও বলতে লাগল, শুধু ওই মাথাটা না তোর এই বাড়িতে আছে অনেক নিষ্পাপ বাচ্চার খারাপ আত্মা। এই বাড়িটা ছেড়ে চলে যাওয়াটাই তোর জন্য মঙ্গল। তুই আগের জায়গায় ফিরে যা না হলে অন্য কোথাও বাড়ি কর। কিন্তু এই বাড়িটা কালকের মধ্যেই ছেড়ে যা। যত দেরি করবি তত তোর আপনজনদের একের পর এক হারাবি।

মন্টু মিয়া দরবেশ লোকটির দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, কিছু কী করা যায় না? ওইসব আত্মাদের কী এই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া যায় না? আমার এতো কষ্টের এতো পরিশ্রমের বাড়িটা এভাবে ছেড়ে যাব?
দরবেশ লোকটি একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, দেখ আমি তোর কষ্টটা বুঝি। বেঁচে থাকলে তোর আবার সব হবে। আর এই আত্মা গুলো এতোটাই শক্তিশালী আর খারাপ যে ওদের কাছে আমার শক্তি হার মানবে। তুই কালকে বাড়িটা ছেড়ে চলে যা এটাই তোর জন্য ভালো হবে।

মন্টু মিয়া মুখে হাত দিয়ে কাঁদতে লাগল। কেউ একজন এসে তার কাঁধে হাতটা রাখল। মন্টু মুখ থেকে হাতটা সরিয়ে পিছনে তাকাতেই তার স্ত্রীকে দেখতে পেল। সালেহা বেগম মন্টুর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, এখানে একা বসে কী করছো? সকাল থেকে তো কিছুই মুখে দাওনি চল কিছু খাবে।

মন্টু মিয়া সামনে তাকিয়ে বলতে যাবে কিছু একটা তখনই তার কথা যেন আটকে গেল। তার সামনে কেউ নেই। সে সত্যি এখানে একা বসে আছে। দরবেশ লোকটি কোথায় চলে গেল? উত্তর খুঁজে পায় না সে।

পরের দিন মন্টু মিয়া ও তার স্ত্রী সবকিছু গুছিয়ে তাদের পুরনো বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বউ, বাচ্চাকে নিয়ে বেড়িয়ে যাওয়ার আগে শেষ বারের মত তার শান্তি নিবাসকে সে দেখে নিচ্ছে। এখানে সে তার দুটো মেয়েকে রেখে যাচ্ছে বাকি আত্মাদের সাথে। বাড়িতে তালা লাগিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে চোখের পানি ফেলে মন্টু মিয়া চলে যাচ্ছে তার শান্তি নিবাস ছেড়ে। তার মনে হচ্ছে তার দুই মেয়ে যেন তাদের চলে যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here