আদালতে গিয়ে সন্তানদের দেখে শাহানুর ও আকতারা বানু দম্পতি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিচারকের অনুরোধেই তারা পুণরায় আদালতের খাস কামরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে ১৭ বছরের সংসার জীবনে গত ছয় মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে আকতারা বানু বাবার বাসায় ফিরে যান। ছেলে সন্তান রয়ে যায় বাবার সঙ্গে। তিন সন্তান পড়ে বিপাকে। এ ঘটনার পর আকতারা বানু স্বামীর বিরুদ্ধে গত ৩০ মার্চ আদালতে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত সমন জারি করেন। রবিবার আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন শাহানুর। তার ইচ্ছে ছিল, আদালতেই দেনমোহরের এক লাখ এক হাজার টাকা পরিশোধ করবেন। কারাগারে গেলেও ওই স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করবেন না।
কিন্তু আদালতের এজলাসে জামিন নিতে উপস্থিত হলে নাটকীয় ঘটনার সৃষ্টি হয়। তিন সন্তানকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই দম্পতি। জামিন আবেদনের শুনানির সময় বিচারকও তিন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য এই দম্পতিকে কলহ ভুলে আবারও সংসারে ফেরার অনুরোধ জানান। বিচারকের অনুরোধে তারা কিছুক্ষণ চিন্তাভাবনা করে আবারও সংসার জীবনে ফিরতে সম্মতি জানান।
পরে রবিবার (২৪ এপ্রিল) পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মতিউর রহমানের হস্তক্ষেপে বিচ্ছেদ থেকে মুক্তি পান ওই দম্পতি। দুই জন আইনজীবী এবং পরিবারের সদস্যদের সামনে বিচারকের খাস কামরায় আদালত মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল খালেককে ডেকে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক এক হাজার টাকা নগদ দেনমোহরানায় তাদের পুনরায় বিয়ে পড়ানো হয়। অবশেষে আপোসনামা দাখিলের পর আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিন সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরেন শাহানুর ও আকতারা বানু দম্পতি।
আকতারা বানু বলেন, আমি আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। এখন আমরা আবারও একসঙ্গে থাকবো। আমি বিচারকের প্রতি কৃতজ্ঞ।
দৈনিক অন্যধারা/২৫ এপ্রিল ২০২২/জকাতা