অন্যধারা ডেস্ক: নাক ডাকা অনেকের কাছে গভীর ও আরামদায়ক ঘুমের একটি স্বাভাবিক লক্ষণ বলে মনে হতে পারে বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্য বা অন্যরা প্রায়ই এটিকে মজার বিষয় হিসেবে নিলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি সবসময় নিরীহ নয় বলে তিনি জানান। অনেক ক্ষেত্রে মনে হয় নাক ডাকা শরীরের অভ্যন্তরে চলমান একটি গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে বলে জানা গেছে। তাই এই বিষয়টি অবহেলা না করে সচেতন ভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। ঘুমের সময় আমাদের শরীর স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা শিথিল হয়ে পড়ে, বিশেষ করে গলার পেশিগুলো ঢিলে হয়ে গেলে শ্বাসনালির পথ আংশিকভাবে সংকুচিত হতে পারে। এ সংকীর্ণ পথে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সময় কম্পন সৃষ্টি হয়। ফলে নাক ডাকার শব্দ উৎপন্ন হয়। অনেক সময় এই সংকোচন এতটাই বেড়ে যায় যে, শ্বাসপ্রশ্বাস কয়েক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থাকে বলা হয় অবস্ট্রাকটিভ সিøপ অ্যাপনিয়া, যা একটি গুরুতর ঘুমজনিত ব্যাধি।
দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় এবং এ কারণে হৃদরোগ হয়, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, এমনকি কিডনি সমস্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয় তখন। নাক ডাকার সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ জড়িত থাকতে পারে। যেমন ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, দম আটকে গিয়ে জেগে ওঠা, সকালে মাথাব্যথা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, দিনের বেলা অতিরিক্ত তন্দ্রা, কাজে মনোযোগের অভাব এবং অকারণে খিটখিটে মেজাজ ভাব। অনেক ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া বা কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিছু নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ কারণ রয়েছে, যেগুলো নাক ডাকার প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। যাদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি, ঘাড় মোটা বা গলার গঠন তুলনামূলক সরু, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। পাশাপাশি ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, নাক বন্ধ থাকা, টনসিল বা অ্যাডিনয়েডের সমস্যা কিংবা দীর্ঘদিনের সাইনাসের অসুখ থাকলেও নাক ডাকার প্রবণতা বাড়তে পারে। বংশগত কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানান।
এ সমস্যা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা এবং ঘুমের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা উপকারী। এছাড়া নাক বন্ধ থাকলে বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। যদি নাক ডাকার সঙ্গে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত দিনের ঘুমঘুম ভাব, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা হৃদস্পন্দনের অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়, তাহলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সিøপ স্টাডি বা পলিসমনোগ্রাফি নামক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘুমের সময় শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওষুধ বা বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় চিকিৎসকদের ধারনা।
দৈনিক অন্যধারা/এইচ

