জাগৃক-এর আসাদুজ্জামানের প্লট বরাদ্দসহ বে*আইনী কাজের অন্ত নেই

- Advertisement -
- Advertisement -

বদলির আদেশ অমান্য করে বহাল জাগৃক আইন কর্মকর্তা-

বিশেষ প্রতিনিধি: তিনি জাগৃক আইন কর্মকর্তা। অথচ নিজেই আইনের তোয়াক্কা করেন না। বরং দুর্নীতি, অনিয়ম আর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, নয় মাস আগে তাকে অন্যত্র বদলির আদেশ হলেও তিনি সেটি উপেক্ষা করেই স্বস্থানে বহাল আছেন। দাপুটে এ কর্মকর্তা হলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অধীনস্থ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) আইন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে তিনি এ পদে যোগ দিয়ে জাগৃক প্রধান কার্যালয়ে আছেন। দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে একই পদে থাকার সুবাদে গড়ে তুলেন দুর্নীতির সিন্ডিকেট। তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সেবা প্রত্যাশীদের আইনী মারপ্যাঁচ দেখিয়ে হয়রানি করা। আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের জিম্মি করেন। প্রতিটি ফাইল আটকিয়ে আদায় করেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ঘুষগ্রহণের জন্য আসাদুজ্জামানের নিয়োগ করা আছে একাধিক কমিশনিং এজেন্ট। অবৈধ অর্থ দিয়ে এরই মধ্যে নিজের আখের গুছিয়েছেন। গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। রাজধানীর মিরপুরে আছে জোড়া ৫ তলা বাড়ি। তারপরও মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় একটি সরকারি ফ্ল্যাট বাগিয়ে নিয়েছেন। অবশ্য তিনি নিজ বাড়ি বা ফ্ল্যাটে বসবাস করেন না।

তার নামে রয়েছে প্লট বরাদ্দ নিয়ে অভিনব জালিয়াতির বিভিন্ন অভিযোগ-মিরপুরে একটি প্লট বরাদ্দ নিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। প্লটটি স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে একজনের নামে বরাদ্দ ছিল। কিন্তু নকশা জালিয়াতি করে ওই প্লটটি পরে অন্যদের বরাদ্দ দেয়া হয়। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা হলেও জাগৃক ছিল নিরব। এমনকি উচ্চ আদালত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বরাদ্দ গ্রহীতাকে তিন মাসের মধ্যে লীজ দলিল প্রদানের আদেশ দিলেও জাগৃক তা উপেক্ষা করে। বরং আদালতের আদেশের কয়েক মাস পর ভুয়া বরাদ্দ গ্রহীতার নামে দায়মুক্তি ছাড়পত্র প্রদান করে। আবার আদালত অবমাননার মুখে পরে ছয় মাসের ব্যবধানে ভুয়া বরাদ্দ গ্রহীতার লীজ দলিল রেজিস্ট্রি ও আমমোক্তার দলিল গ্রহণের আবেদন   না-মঞ্জুর করেছে। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মিরপুরস্থ সেকশন-১২, ব্লক-ই, লেন-৪-এর ৪০/১ পুনর্বাসন প্লটটি নিয়ে এ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে প্লটটি বরাদ্দ পান হানিফ মোল্লার কন্যা শায়েরজান খাতুন। বরাদ্দকালে প্লটটি ৭০ নং হিসেবে চিহ্নিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সংশোধিত নকশায় সেটি ৪০/১ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেই মোতাবেক শায়েরজান একাধিকবার সংশোধিত বরাদ্দের আবেদন করেও কোন সাড়া পাননি। এ সুযোগে দুর্নীতির মাধ্যমে সেটির বরাদ্দ বাগিয়ে নেয় অন্য গুরুপ।

এ বিষয়ে শায়েরজান খাতুন জাগৃক কে বিবাদী করে ২০০২ সালে জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত ২০০৪ সালে যাচাই-বাছাই করার জন্য কোর্ট কমিশন নিয়োগ করেন। কোর্ট কমিশনের প্রতিবেদন মোতাবেক ২০০৭ সালে শায়েরজান খাতুন এর পক্ষে প্লটটি হকদার মর্মে ডিগ্রি প্রদান করেন। এর ভিত্তিতে শায়েরজান পুনরায় সংশোধিত বরাদ্দের আবেদন করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী ডিভিশন, ১ থেকে তাহার পক্ষে প্রতিবেদনও দেওয়া হয়। তারপরও বরাদ্দ না দেওয়ায় ২০০৯ সালে তিনি হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৩ সালে হাইকোর্ট শায়েরজান খাতুনের প্লটটি তিন মাসের মধ্যে বরাদ্দসহ লীজ দলিল প্রদান করে আদালতকে অবহিত করার আদেশ প্রদান করেন।

এসব ছাড়াও নিজ জেলা টাংগাইলের ধনবাড়িতে আসাদুজ্জামানের রাজকীয় বাড়ি ও বিপুল জমি রয়েছে। নরসিংদীতে ইন্ডাস্ট্রি ও বাড়ি থাকারও গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও তার ব্যবসা রয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

জাগৃক সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামানের দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়ে অফিসে অনেকটা ওপেন-সিক্রেট। তবে রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ তার ব্যাপারে নির্বিকার ছিলেন। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের l আমলে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী অনেকের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলে আসাদুজ্জামান আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তার অবস্থার নড়বড়ে হয়নি। যার প্রমাণ মিলে তাকে অন্যত্র বদলি করা হলেও তিনি সেটি উপেক্ষা করেই মাসের পর মাস বহাল রয়েছেন।

জানা গেছে, গত বছরের ৭ জুলাই আসাদুজ্জামানকে জাগৃক থেকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা হিসেবে বদলি আদেশ হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ-১ এর যুগ্ম সচিব মোসাঃ ফেরদৌসী বেগমের স্বাক্ষরে স্মারক নং ২৫.০০.০০০০.০৫৩.০১১.০০২.২০০৮.২০৬ মূলে এ আদেশ জারি হয়। তবে দীর্ঘ নয় মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এ আদেশ কার্যকর হয়নি। এমনকি এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষেরও কোন ব্যবস্তা নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে আইন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে জাগৃক-এর সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আলমগীর হুসাইন প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানকে বদলি কিংবা সেটি কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। তবে একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে সরকারি আদেশ অমান্য করা উচিত নয়।

দৈনিক অন্যধারা/এইচ

- Advertisement -

আরো পড়ুুর