মানহানি অভিযোগে ফৌজদারি মামলা: তদন্তে মোহাম্মদপুর থানা, শুনানি ১৬ জুলাই

- Advertisement -
- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রকাশিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মানহানি মামলার তদন্তভার পেয়েছে মোহাম্মদপুর থানা। মামলাটিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে কাওসার আহমাদকে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে অনলাইনে মানহানিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রচার করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি গত ১৬ জুন ঢাকা মহানগরের মুখ্য হাকিম আদালতে দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী ইউসুফ কাউসার নিজেকে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আদালতে আবেদন দাখিল করেন। পরে বিষয়টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল ইসলামের আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪, ৫০৫ এবং ৫০৫(ক) ধারার আওতায় নথিভুক্ত হয়েছে। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, মামলার নম্বর সি.আর.-৬৩০/২০২৬।

আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, দণ্ডবিধির ৫০০ ধারা মানহানির শাস্তি সম্পর্কিত, ৫০১ ধারা মানহানিকর বিষয়বস্তু প্রকাশ বা মুদ্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং অন্যান্য ধারাগুলো জনশৃঙ্খলা, উসকানিমূলক বক্তব্য বা আপত্তিকর আচরণের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত আইনগত ভিত্তি নির্ধারিত হবে তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত তাঁর টুইটার/এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে একাধিক বক্তব্য প্রকাশ করেন। অভিযোগকারী পক্ষের মতে, এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছিল।

আদালত মামলাটি গ্রহণের পর তদন্তের দায়িত্ব মোহাম্মদপুর থানাকে প্রদান করে। সাধারণত এ ধরনের মামলায় তদন্তকারী সংস্থা প্রথমে অভিযোগপত্র, সংশ্লিষ্ট অনলাইন কনটেন্ট, ডিজিটাল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। প্রয়োজন হলে সাক্ষ্যগ্রহণ, ডিজিটাল ফরেনসিক যাচাই বা অন্যান্য অনুসন্ধানমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

যদিও মামলার বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, আদালত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে যে পরবর্তী শুনানির আগে তদন্তের প্রাথমিক অগ্রগতি আদালতকে জানানো হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন প্রকাশনা-সংক্রান্ত মামলাগুলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—প্রকাশিত বক্তব্যটি কি আইনগত অর্থে মানহানিকর, নাকি তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত রাজনৈতিক মতামত। আদালতকে প্রায়শই বক্তব্যের ভাষা, উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করতে হয়।
মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিন তদন্তের অগ্রগতি এবং মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

- Advertisement -

আরো পড়ুুর