শ্রমশক্তি উন্নয়নের চালিকাশক্তি

শ্রমশক্তি উন্নয়নের চালিকাশক্তি
নাঈমুল রাজ্জাক:
সমাজ হলো একটি মানবিক সংগঠন যা মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক, সম্পর্ক, সামাজিক পদ্ধতি, সাংস্কৃতিক অভিযান, আর্থিক প্রক্রিয়া ইত্যাদির সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এটি মানুষের আদর্শ, মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, সমানতা, ন্যায় ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে গঠিত হয়। সমাজে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সহযোগিতা, সামাজিক ন্যায়, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, সমাজগত পরিবর্তন ইত্যাদি বিভিন্ন দিক থেকে ঘটে আসে। অর্থনীতি হলো অর্থবিজ্ঞানের একটি শাখা যা ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অর্থের ব্যবহার, বিতরণ, বিনিয়োগ, উৎপাদন, আর্থিক নীতি, মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহ এবং চাহিদা ইত্যাদি নিয়ে বিশেষ গবেষণা করে। অর্থনীতির মাধ্যমে মানুষ সম্পর্কের নিয়ন্ত্রণ করে, সম্পদ বিতরণ এবং অর্থ উন্নয়ন বিষয়ে নির্ধারণ গ্রহণ করে। শ্রমশক্তি হলো একটি মূলত মানুষের শ্রমের আবিষ্কার, ব্যবহার এবং পরিবর্ধন এর উপর ভিত্তি করে। শ্রমশক্তির উন্নয়নে বিভিন্ন চালিকাশক্তির ভূমিকা আছে, যেমন প্রযুক্তির উন্নয়ন, শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের বিনিয়োগ ইত্যাদি। শ্রমশক্তির উন্নয়ন উচ্চমান সংখ্যক জনবল ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলির প্রচেষ্টা যা শ্রমশক্তির উন্নয়নে কর্মীদের শিক্ষা, কৌশল উন্নয়ন, ভবিষ্যতের প্রস্তুতি এবং তাদের কর্মসংস্থানে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে শ্রমশক্তি উন্নয়ন করে। এই চালিকাশক্তি উন্নয়ন অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি মাত্র একটি চালিকাশক্তি এবং অন্যান্য চালিকাশক্তিসমূহের সাথে সংযোগ স্থাপন করে শ্রমশক্তির উন্নয়নের জন্য মৌলিক কারণগুলির একটি অংশ মাত্র। শ্রমশক্তির উন্নয়নে চালিকাশক্তির মাধ্যমে কর্মীদের পেশাগত ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়া যায়, যা তাদের প্রতিষ্ঠানে উন্নতি এবং মূল্যবান উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় হতে পারে। ফলে শ্রমশক্তির উন্নয়ন সাধারণত একটি সমাজ ও অর্থনীতির লক্ষ্যের সাথে মিল খাতে পারে, কারণ শ্রমশক্তি হলো একটি জনসাধারণের প্রধান সম্পদ যা অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের সাথে সারিবদ্ধভাবে কাজের প্রবিধান উদ্ভূত এবং শ্রমিক ও ব্যবসার মধ্যে সংযোগ হিসাবে সীমিত সুযোগেও বিপ্লব পরিবর্তিত হয়েছে এর আলোচনায়। যে ব্যক্তি, একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, পরিষেবাগুলি সম্পাদন করে এবং নির্দেশ অধীনে, অন্য ব্যক্তির জন্য, বিনিময়ে যা সে পারিশ্রমিক পায়।অন্যদিকে শ্রম বলতে,শ্রমিকদের একটি গ্রুপ বা একটি নির্দিষ্ট দ্বারা করা কাজ তার শ্রমের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান। লিঙ্গ বৈষম্য এবং এর ফলে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সমাজ ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব, জাতীয় নারীদের অবদানের বিষয়টি কেন্দ্রীভূত হয়।কিন্তু,সময়ের সাথে শ্রমিকরা ভাল পরিস্থিতির জন্য এবং ব্যবসাগুলি আরও আশ্চর্যজনক, অভিযোজিত এবং ব্যয়বহুল শ্রমশক্তি গঠনের ফলে সমস্যা নিমূল করে । এটি এখন ব্যাপকভাবে স্বীকৃত যে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ তাদের উন্নতি আপেক্ষিক অর্থনৈতিক অবস্থান এবং একটি বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে এছাড়াও দক্ষতা উদ্দীপিত এবং অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভাবনা নিণয় করে । সমাজ ও অর্থনীতিতে শ্রমশক্তি উন্নয়নেরই একপ্রকার চালিকাশক্তি হয়ে কাজ করছে যুগের বহমান রেখায় এবং শ্রমশক্তির উন্নয়ন সমাজ ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ উল্লেখ্য বৈশিষ্ট্য। শ্রমের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন, প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতেও বদ্ধ পরিকর।
দৈনিক অন্যধারা/ ৩ আগস্ট ২০২৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here