বিশেষ প্রতিনিধি: বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরো বলেছেন, ‘ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে আর চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি এখনো তা করবো না। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গ হচ্ছে, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সকল ক্ষেত্রে সমান ভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।
শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণি হত্যা না করা, চুরি, ব্যাভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।
এই নির্দেশনাগুলো প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারব ইনশাল্লাহ।
‘সুতরাং যাতে প্রতিটি নাগরিক প্রত্যেকেই যে যার ধর্মীয় রীতি নীতি ও অধিকার বিনা বাধায়-স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। দল-মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর’, যোগ করেন সরকার প্রধান।
বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সকলে আমরা বাংলাদেশি।
দৈনিক অন্যধারা/এইচ

